সাকসেসফুল লেডি–শাহারা খান–

সাহিত্য


অতি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাঙ্গালী লেখিকা শাহারা খানের ছোট গল্প “সাকসেসফুল লেডি” যা যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এক বাঙ্গালী মহিলার জীবনের বাস্তব গল্প অবলম্বনে রচিত। সময় সিলেট এর প্রতিবেদক এর সাথে আলাপকালে লেখিকা শাহারা খান বলেন এখানে সুলতানা জাহান ও সাবরিনা জাহান আমার গল্পের দুটি প্রতিকী চরিত্র তবে আমি এখানে বসবাসরত একজন বাঙ্গালী মহিলা ও তার মেয়ের জীবন সংগ্রাম ও সাফল্যের একটা সত‍্য গঠনা আমার গল্পে দুটি প্রতিকী নামে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।এই সত‍্য গল্পটি যদি পাঠকের মনে দাগ কেটে যায় তবেই আমি স্বার্থক।

উল্লেখ‍্য লেখিকা শাহারা খানের “সাকসেসফুল লেডি” ছোট গল্পটি গত ১০মার্চ তারিখে তার ফেইসবুক টাইমলাইনে প্রকাশ করেন যা পাঠকের জন‍্য হুবুহু নিচে দেওয়া হলো।

ছোট গল্প:: “সাকসেসফুল লেডি”———-

ব্রিটেনের সব কয়টা দৈনিক পত্রিকায় আজ যে খবরটি সবার শীর্ষে স্হান পেয়েছে,তা হলো ব্রিটেনে বাংলাদেশী মেয়ের কৃতিত্ব।মেয়েটির নাম সাবরিনা জাহান।এই কৃতিত্বে যেমন খুশি হয়েছেন অভিভাবক,তেমন খুশি হয়েছেন শিক্ষক/শিক্ষিকা।আর সর্বপরি আমরা যারা বাংলাদেশী ব্রিটেনে বসবাস করছি তাদের সকলের জন্য বিষয়টি সবচেয়ে খুশির।অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে Masters in law and Finance ড্রিগ্রি কৃতিত্বের সাথে অর্জন করে সাবরিনা জাহান আজ খবরের শীর্ষে।সাবরিনার এই সাফল্যের পিছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হলেন তার মা মিসেস সুলতানা জাহান।মেয়ের সাফল্যে কান্না ভেজা কন্ঠে তিনি আমাদের জানান আমি আজ গর্বিত মেয়ের এই সাফল্যে।আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে।মেয়েরা ও চাইলে অনেক কিছু করতে পারে।সবার কাছে আমার মেয়ের জন্য দোয়া চাই।
মিসেস সুলতানা জাহান বিয়ের দুই বছর পর স্বামীর সাথে বসবাসের নিমিত্তে ব্রিটেনে আসেন।এখানে আসার কিছুদিনের মধ্যেই স্বামীর আসল রূপ তার কাছে ধরা পড়ে।সারাদিন মেয়ে মানুষ নিয়ে সময় কাটানো,মদ খেয়ে টাল হয়ে বাসায় ফেরা,সামান্য কারনে বউকে শারীরিক নির্যাতন করা।সুলতানা যদিও শিক্ষিতা তথাপি বিদেশের পরিবেশের সাথে খাপ খেতে তাকে সময় নিতে হয়।তাছাড়া এই বিদেশে তার আপন বলতে কেউ নেই।তাই স্বামীর এই আচরণে বাদা দিয়েও যখন কাজ হয়নি নিরবে কান্না করা ছাড়া কিছুই করার নেই।সুলতানা ছিলেন খুব সাহসী।তাই স্বামী যখন তাকে রেখে বিনা অনুমতিতে আরেকটা বিয়ে করে,তখন আর চুপ থাকেননি।আইনের আশ্রয় নিয়ে স্বামীর সাথে সেপারেশন হয়ে যান।মেয়ে সাবরিনার বয়স তখন পাঁচ বছর।সুলতানা শক্ত হয়ে নিজে একটা চাকুরী করা শুরু করেন।অনেক কষ্ট করছেন মেয়েকে স্কুলে দিয়ে কাজে যেতেন,ফিরতে দেরী হলে একজন পাকিস্তানী ফ্রেন্ড মারফত মেয়েকে বাসায় আনাতেন।মা ফিরে না আসা পর্যন্ত সাবরিনা না খেয়ে অপেক্ষা করতো।কখনো সমস্ত হোমওয়ার্ক করে ফেলতো।কখনো পাকিস্তানী মহিলা কিছু খাবার দিয়ে যেতো।ছোটবেলা থেকেই সাবরিনা মায়ের মতো সংগ্রামী হয়ে উঠে।মায়ের প্রতি বাবার অনাচার দেখে বাবার উপর ঘৃণা জন্ম নেয়।যার দরুন বাবা অনেক চেষ্টা করেও কন্যার সাথে কোন সম্পর্ক রাখতে পারেনি।সুলতানার জীবনের একটাই লক্ষ্য মেয়েকে তিনি যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।আর তাই অনেক কষ্ট করেছেন।চাকুরী করছেন।অবসরে লেখালেখি করে বই ছাপিয়েছেন।ছুটির দিনে প্রাইভেট ছাত্র পড়িয়েছেন।এত ব্যস্ততার মধ্যেও যতক্ষন বাসায় থাকতেন মেয়েকে সঙ্গ দিতেন।পড়া দেখিয়ে দিতেন।পার্কে নিয়ে যেতেন।কষ্টের টাকায় মেয়ের জন্য বাড়ি কিনেছেন।মায়ের কষ্ট মেয়ে সার্থক করেছে।জি,সি,এস,সি থেকে শুরু করে এ লেভেল, ড্রিগ্রি তারপর মাষ্টার্স প্রতিটি পরীক্ষায় সবার শীর্ষে স্হান অর্জন করেছে।ষ্টুডেন্ট থাকাকালীন পার্টটাইম জব করে নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি নানান অসহায় মানুষদের সাহায্য সহযোগিতা করে আসছে।সাবরিনা নিজে একটা চ্যারেটি সংস্হার সাথে জড়িত হয়ে বিভিন্ন দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাড়ায়। লেখাপড়ায় ভালো হওয়ায় সাবরিনাকে প্রতি বছর গভর্নমেন্টের তরফ থেকে বৃত্তি দেয়া হয়।মাষ্টার্স কমপ্লিট হওয়ার আগেই বিভিন্ন সংস্হা থেকে জবের অফার আসে।একজন সাকসেসফুল লেডি হিসেবে সুলতানা জাহানের নাম আজ সবার মুখে মুখে।যদিও একসময় স্বামীর সাথে সেপারেশন হওয়ায়,অনেকে তাকে হীন চোখে দেখতো।আড়ালে কটু কথা বলে আঘাত দিতো।আজ তারাই সাবরিনার কৃতিত্ব্রের জন্য সুলতানা জাহানকে বাহবা দিচ্ছেন।

ছোট গল্প::“সাকসেসফুল লেডি”
লেখক ::শাহারা খান
প্রবাসী বাঙ্গালী।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *