করোনা আজ এক আতঙ্কের নাম।বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ব্রিটেনে বসবাসকারী আমরাও এর ব্যতিক্রম নই।কয়েক মাস ধরে লকডাউন।ঘরবন্দি মানবজীবন।ভয়াবহ এই ব্যাধি থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতা চাই।অফিস আদালত,স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি বন্ধ।নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানগুলো খোলাই আছে।তবে এমাসের ১৫ তারিখ থেকে বাকী সবগুলোও খোলা হবে।অর্থনৈতিক কাটামো চালু রাখতে অবশ্যই তা করতে হবে।তবে নিজেকে সচেতন রেখে নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে।নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে,সাবধানতা অলম্ভন করতে হবে।স্বাস্হ্যবিধি মেনে চলতে হবে।আমরা প্রবাসে থাকলেও,আমাদের সমস্হ উৎকন্ঠা,সমস্হ ভালোবাসা দেশবাসীর জন্য।এই করোনা ক্রান্তিতে আমরা যতটা না নিজেদের চিন্তা করছি,তারচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন আমরা আমাদের দেশ এবং দেশের পরিজনের কথা ভেবে।ব্যাংক খোলাকালীন সময়ে,অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশে আর্থিক অনুদান পাঠিয়েছেন,করোনা কালীন সময়ে অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে।অনেক বাঙালী সংগঠন,চ্যারিটি সংস্হা টাকা সংগ্রহ করে সেই টাকা গরীব অসহায়দের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করেছে।দেশের পরিজন এই কাজের ছবি আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন।ছবিগুলো দেখে আমরা আপ্লুত হয়েছি।অল্প হলেও অসহায়দের পাশে আমরা দাঁড়াতে পেরেছি।এই প্রবাস জীবনে একে অন্যকে আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছি।কারো পরিবারের সদস্য হয়তো মারা গেছেন,তার বাসায় যাওয়া যাচ্ছে না।অনলাইনে অর্ডার করে অনেকেই তাদের বাসায় খাবার পৌছে দিয়েছেন।কিংবা অনেকে নিজে খাবার এনে,ভিতরে না ঢুকে দরজার বাহিরে খাবার রেখে তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।কেউ একজন গাড়ি নিয়ে বাজারে গিয়েছেন,ফোন করে জেনে নিয়েছেন প্রতিবেশীর কারো কিছু লাগলে,তারজন্য নিয়ে এসেছেন।অনেকের হয়তো নিজস্ব গাড়ি নেই,তাদেরকে বাজার নিয়ে ঘরে পৌছে দিয়েছেন।অনেক মালিক কর্মকর্তাকে দেখেছি,অধিনস্ত কর্মচারীকে ফোন করে জেনেছেন,টাকা পয়সার দরকার হলে,সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।এই মানবিক কাজগুলো দেখে আমি বিমোহিত হয়েছি।মানুষ মানুষের জন্য।জীবন জীবনের জন্য।করোনা আল্লাহর তরফ থেকে এক পরীক্ষা।এই পরীক্ষা একদিন শেষ হবে।আমরা যারা এই পরীক্ষাকালীন সময়ে একে অন্যের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে বিপদ মোকাবেলার চেষ্টা করছি,ইনশাআল্লাহ তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে।
লেখক-শাহারা খান,
যুক্তরাজ্য প্রবাসী,
১১/০৬/২০






